রাষ্ট্রাচারের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও নবনির্বাচিত বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

শনিবার একুশের প্রথম প্রহরে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। জামায়াতে ইসলামীর কোনো শীর্ষ নেতার শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। অতীতে দলটির নেতারা এই কাজটিকে ‘অনৈসলামিক’ বলে আখ্যা দিতেন, যার ফলে এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জামায়াত আমির। প্রথমবারের মতো শহীদ মিনারে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি এটিকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।

"এবার রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে…এটা আমার দায়িত্ব। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে আমাকে আসতে হবে আমার সঙ্গীদের নিয়ে। তাই আমি এসেছি।"


কারা উপস্থিত ছিলেন এই শ্রদ্ধা নিবেদনে?


শনিবার প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এর কিছুক্ষণ পরই বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান তার সঙ্গীদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন।

উপস্থিত নেতৃবৃন্দদল/পদবি
এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও মুজিবুর রহমাননায়েবে আমির, জামায়াতে ইসলামী
নাহিদ ইসলামআহ্বায়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)
আখতার হোসেনসদস্যসচিব, এনসিপি
হাসনাত আবদুল্লাহমুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল), এনসিপি


ফুল দেওয়ার পর তারা শহীদ মিনারে দাঁড়িয়েই শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন।

সকল শহীদদের স্মরণ ও সাংবাদিকদের প্রশ্ন


সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে শফিকুর রহমান শুধু বায়ান্নর ভাষাশহীদ নয়, বরং ১৯৪৭ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সকল আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ৪৭-এর পাকিস্তান সৃষ্টি, ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান এবং গত সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট আমল ও জুলাই অভ্যুত্থানের সকল যোদ্ধাদের তারা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। বিশেষ করে শহীদ ওসমান হাদির কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

জামায়াত এখনো শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে 'নাজায়েজ' মনে করে কি না—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘এ ধরনের প্রশ্ন আপনি কেন আজকে করছেন?’ এরপর আর কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাদের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোট মোট ৭৭টি আসন পেয়েছে এবং শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন।