শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ শহরের শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন আয়োজিত মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
নতুন প্রজন্মের (জেন-জি) ভাষা ও চিন্তাধারার সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সমাজ যেন পেছনের দিকে হাঁটছে। আমরা যদি নিজেদের মাতৃভাষা নিয়ে আরেকটু সচেতন হতাম, তাহলে আজকের তরুণরা ‘ইনকিলাব’ শব্দটি ব্যবহার করত না।
“তারা ইনকিলাব বললে আমার রক্তক্ষরণ হয়। এটার জন্যই কি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম? সমাজ পরিবর্তনের জন্যই জীবন বাজি রেখেছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি সমাজ উল্টো দিকে হাঁটছে।”
মাতৃভাষা ও ইতিহাস চর্চায় অবহেলা
বিদ্যুৎমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ বা ‘আজাদি’—এই শব্দগুলোর সঙ্গে বাংলা ভাষার কোনো সম্পর্ক নেই। এগুলো মূলত তাদেরই ভাষা, যারা একসময় বাঙালিদের কাছ থেকে মাতৃভাষার অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল।
নিজের এই স্পষ্ট কথার জন্য সমালোচনার মুখে পড়তে পারেন জানিয়ে তিনি বলেন, “এসব সত্য কথা বলার কারণে অনেকেই হয়তো আমাকে ভারতের দালাল বা ‘র’-এর এজেন্ট বলে আখ্যা দেবে। তবুও আমি সত্যটা বলে যাব, কারণ এই অধিকার আদায়ের জন্যই আমি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম।”
নিজস্ব ইতিহাস ও ভাষার প্রতি যত্নবান না হওয়ার কারণে দেশে জাতীয়তাবাদ (ন্যাশনালিজম) ঠিকমতো গড়ে উঠছে না বলেও মনে করেন তিনি। তিনি সতর্ক করে বলেন, যে জাতি নিজের অতীত ইতিহাস জানে না, তারা কখনোই উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যারা:
| নাম | পদবি |
|---|---|
| আমিনুল ইসলাম | জেলা প্রশাসক, সিরাজগঞ্জ (সভাপতির দায়িত্ব) |
| সাইফুল ইসলাম | পুলিশ সুপার, সিরাজগঞ্জ |
| মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম | উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার বিভাগ |
| সাইদুর রহমান | প্রেসিডেন্ট, সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স ও সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপি |
তথ্যসূত্র: সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন কার্যালয়।